Wednesday, July 15, 2026

এইচএসসির তিনটি পরীক্ষা ফের নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

এইচএসসির তিনটি পরীক্ষা ফের নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা নিজের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যও তিনি জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬’ পাসের আগে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শিক্ষার্থীদের টানা ১০ ঘণ্টার রাজপথ অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, “গতকাল (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় প্রবল বৃষ্টি ছিল। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজেছে এবং সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। যদিও আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছে।”

তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া এই বোর্ডের পরীক্ষাগুলো যখন নতুন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে, ঠিক সেই সময়েই সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর

এর আগে, সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টিও সংসদে স্বীকার করে নেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। আমরা মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব পেয়েছি, এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের করা। তারপরও শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে আমরা সর্বোচ্চ নজর রাখছি।”

পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি—মন্ত্রীর ব্যাখ্যা

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও আগে কেন পরীক্ষা পেছানো হলো না— সংসদে এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমরা ৬৪ জেলার এসপি, ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বোর্ড চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা জানিয়েছিল, আবহাওয়া ভালো থাকবে। এছাড়া স্থানীয় ডিসি ও ইউএনওদের ক্ষমতা দেওয়া ছিল, পরিস্থিতি খারাপ দেখলে তারা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা স্থগিত করতে পারতেন। কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে পানি ওঠায় সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।”

ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য (যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে) নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এর জন্য ক্ষমা চান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আঘাত করে কিছু বলিনি। এরপরও যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে, আমি সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।” তাঁর এই দুঃখ প্রকাশকে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান উপস্থিত সংসদ সদস্যরা।

আন্দোলন স্থগিত করল শিক্ষার্থীরা

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া, প্রশ্নপত্রে ভুল এবং শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, উত্তরা ও সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অবরোধ করে রাখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন।

তবে রাতে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ ও তিন বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণার পর, রাত পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা আপাতত তাদের অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যায়। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা এখনো অনড় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।