সম্পাদকীয়
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আপনার মন আনচান করতে থাকে কিছু রয়ে গেল না তো? ঘুমানোর আগে মনে হয় দরজাটা খোলা নয় তো? বের হবার সময় সন্দেহ হয় জরুরি জিনিস নিয়েছি তো? অতশত ভেবে নিজেদেরে নিরাপদ রাখার অজুহাতে বারবার পরীক্ষা করে অঢেল সময় নষ্ট করা হতে পারে আপনার জীবনের চরম এক ভোগান্তির নাম।
ধারালো জিনিস বা ক্ষতিকর জিনিস দেখলে আতঙ্ক লাগতে থাকা যে তা দিয়ে নিজের হাতে আপনজনের ক্ষতি করে ফেলবেন। আপনি নিজেও জানেন আপনার চিন্তাটা ভিত্তিহীন।
কারও আবার জরুরি কাজ ফেলে পাটে পাটে সব গোছানোই যেন স্বস্তির কারণ।
শিশুরাও অনেক সময় একই কাজ করে তার খেলার জন্য যে বরাদ্দকৃত সময় তা নষ্ট করে ফেলে।
গল্পের মাঝ পথে আপনার মনে হলো শুরুটা আপনার ভালোভাবে বোঝা হয়নি, ভালোমন্দ না ভেবেই আবার গোড়া থেকে শুরু করাই যেন আপনার মানসিক শান্তির কারণ। এসব সমস্যার কারণে কোনও কাজই আপনার নির্দিষ্ট সময়সীমায় পূর্ণ হয় না।
অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে আচরণ, অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে মনোযোগ বেশি দেওয়া, অহেতুক সন্দেহের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক কাজ থেকেও আপনি দূরে সরে যাচ্ছেন।
আর প্রিয়জনের সান্নিধ্য থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। এই ধরনের অতিরিক্ত আচরণ, চিন্তা বা ভয়ের আরেক নাম ওসিডি, অর্থাৎ অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD বা ওসিডি) যা বাংলায় পরিচিত শূচিবায়ু বা সুচিবাই নামে।
জীবাণুর ভয় বা অতিরিক্ত ধোয়ামোছা বাদেও এতক্ষণ যে ধরনগুলো জানলাম তাও ওসিডি। এ সমস্যায় ধর্মীয় বিষয় নিয়েও নানা ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। মনে হয় নামায ঠিকমতো হচ্ছে না। কেরাত ভুল হচ্ছে, সূরা বাদ পড়ছে এরকম নানা অহেতুক চিন্তা করে দীর্ঘ সময় নষ্ট করা। বার বার মনে হয় ওযু হচ্ছে না, শরীর পাক নেই এরকম কতশত অহেতুক চিন্তা।
অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু নাম্বার বা প্যাটার্ন অনুসরণ বা ফলো করাও এ মানসকি রোগের বা স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ।
অনেক সময় বিভিন্ন ধরনরে ছবি বা ইমেজ চোখের সামনে ভাসতে থাকে, চাইলেও সরে না। এসবই হতে পারে ওসিডির লক্ষণ।

















